Tuesday , May 21 2019
Breaking News
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / News / এক রাতে ১০টি কনডমের ব্যবহার হলেই স্বামীর এক হাজার টাকা

এক রাতে ১০টি কনডমের ব্যবহার হলেই স্বামীর এক হাজার টাকা

এক কনডম, এক খদ্দের। আর এক খদ্দের একশ টাকা। ভোরে যখন বাসায় যাই, তখন ফের কনডমের হিসাব নেয়। রাতে দশটি কনডমের ব্যবহার হলে স্বামীকে এক হাজার টাকা গুনে দিতে হয়। এক টাকা কম হলে রক্ষা নেই।’

যৌনকর্মী সীমার জীবন খাতার হিসাব এটি। বয়স ৩৩ -এর ঘরে। তবে নিজ হিসাব মেলাতে পারিনি একটি দিনের জন্যও। রাতের বেলায় প্রায় প্রকাশ্যে যৌন পেশায় লিপ্ত হয়ে গতর খাটা আয়েও অধিকার নেই সীমার। যেন জীবনের ঘানি টানতেই তার জন্ম। আর সে জীবনের স্বাদ তার কাছে বরাবরই ফ্যাকাশে।

ফার্মগেট, চন্দ্রিমা উদ্যান আর বিজয় সরণি এলাকায় রাতে যেসব ভাসমান যৌনকর্মীদের দেখা মেলে, সীমা তাদের মধ্যে অতিপরিচিত। সিগারেটে আসক্তি থাকলেও অন্য নেশায় টান নেই এই নারীর। মূলত খদ্দের টানতেই নেশার ঘোরে শরীরের গাঁথুনি নষ্ট করতে চাননি তিনি। ঝটপটে, চঞ্চল, ঠিক যেন হরিণের মতো। এ পাড়ায় সকল খদ্দের তার চেনা প্রায়। সীমা দাঁড়ালে অন্যের ভাগে খদ্দের মেলা ভার।

এ দিনেও কথা বলার সময় ছিল না তার। গাছের গোড়ায় কাপড় টেনে ঘর বানিয়ে একের পর এক খদ্দের টানছেন সেখানে। কিন্তু অবেলায় বৃষ্টি বাগড়া বাধায়। মধ্যরাতে খানিক বৃষ্টি হয়ে ছুট দেয় বটে, তবে খদ্দেরের আনাগোনা কমে গেছে ওটুকু বৃষ্টিতেই। বৃষ্টির কারণেই অলস সময় কাটছিল রনি, তানিয়া আর সীমার।

খুলনার তালুকদার বংশের মেয়ে সীমার শৈশব কেটেছে সুখের আদলে। কিন্তু ডানপিটে স্বভাবের হওয়ায় সে সুখে স্থির হওয়া হয়নি। পড়ালেখায় ইতি টেনে মনের খেয়ালে শৈশবে একবার চলে যায় সিলেট হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে। সেখানে কয়েক দিন কাটিয়ে ট্রেনে করে চলে আসে কমলাপুর স্টেশনে। ২০০১ সালের কথা। আর এখানেই নিভতে শুরু করে জীবনের স্বপ্নময় আলো। স্টেশনেই পরিচয় হয় এক ভাসমান যৌনকর্মীর সঙ্গে। সে সীমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। জোর করে ওই নারী তার স্বামীর বিছানায় শুইতে দেয় সীমাকে। কিশোরী সীমার সঙ্গে রাতভর চলে ধস্তাধস্তি। তবুও যৌন কাজে বাধ্য করাতে পারে না- বলছিলেন সীমা।

পরের দিন এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। দালাল নিয়ে যায় পল্টনের এক আবাসিক হোটেলে। বাধ্য করায় যৌন পেশায়। এরপর আবারও বিক্রি। বাড়ির সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এ সময়। এরপর আরেক হোটেলে বিক্রি। অন্ধকার জীবনের এ গলি থেকে ও গলি। কিন্তু বাড়ি আর ফেরা হয় না। হোটেলেই এক খদ্দেরের সঙ্গে পরিচয়। পরিচয় থেকেই দিনে দিনে প্রেম জমে ওঠে। প্রেমিকের হাত ধরেই হোটেল থেকে মুক্তি। কিন্তু নিষিদ্ধ পাড়া থেকে আর মুক্তি মেলে না। স্ত্রী হিসেবে ঘরে এনে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করেন। দেহ ব্যবসার জন্যই নারায়ণগঞ্জ বাসা নেয়া বিয়ের মাস খানিক পর। সে বাড়িতে শ্বশুর-শাশুড়িও অবস্থান করতেন। তারাও বাধ্য করত এ পেশায়।

বছর দুই পর ভাটা পড়ে নারায়ণগঞ্জের বাড়িতে সীমার দেহ ব্যবসায়। স্বামী নিয়ে আসে ঢাকার তেজগাঁওয়ে। ঘটনার সময় আর স্থান বদলায় বারবার, কিন্তু সীমার জীবনের রঙ বদলায় না আর। তবে এবার আর ঘরে নয়, সীমার দেহ ব্যবসার জন্য ঠাঁই হয় উন্মুক্ত জায়গা। আর আবাসিক হোটেলে ঠাঁই মেলেনি তার। ১৭ বছরের যৌন পেশার ১৪ বছরই কেটেছে ফার্মগেট পার্ক, বিজয় সরণি আর চন্দ্রিমা উদ্যানে। বিয়ের পর খুলনায় বাবার বাড়ি গিয়েছিলেন দু’বার। কিন্তু স্বামী নিজেই গিয়ে বদনাম ছড়িয়ে দিয়েছে সীমার গ্রামে। আর থাকা হয়নি বাবার বাড়ি। ঢাকায় ফিরে ফের স্বামীর হাত ধরেই যৌন পেশায়। এরমধ্যে এক ছেলে এক মেয়েও জন্ম নেয় তার ঘরে। নেশায় আসক্ত স্বামীর আয়ের উৎস স্ত্রী সীমার দেহটিই।

এখন দিনের আলো খুব কম দেখা মেলে সীমার। সারারাত গতর খেটে ঘুমান দিনভর। ছেলেমেয়ে জানে, তাদের মা একটি হাসপাতালে কাজ করেন। সন্তানদের পড়ালেখা, বাড়ি ভাড়া, সংসার আর স্বামীর নেশার টাকার সবই আসে সীমার দেহব্যবসা থেকে। রাতে রাস্তার পাশেই এক খদ্দেরের হাত থেকে আরেক খদ্দেরের হাত পড়ে সীমা। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকে স্বামীর হাতেই।

সীমা বলেন, ‘অনেকবার চেষ্টা করেছি স্বামীকে ছেড়ে দেয়ার। ও আমার জীবনের অভিশাপ। বাবা-মায়ের মুখও দেখতে পারি না। ভোরে গিয়ে টাকা হাতে না দিতে পারলে মারপিট করে। পালিয়ে থেকেও রক্ষা পাইনি। সব নেশাই করে। এখন সে মরলেই বাঁচি। সন্তান নিয়ে দেশে চইলা যামু।

Check Also

ভারতের ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, নিহত ১১,আহত অনেক

সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলায় ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ১১ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন অরুণাচলের বিধায়ক। …

নির্বাচনে প্রার্থী হলেন খালেদা জিয়া

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন খালেদা জিয়া। দলটির প্রার্থী হিসেবে কারাগারে থাকা দলের …

মক্কার দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস, পবিত্র নগরীকে টার্গেট করায় নিন্দার ঝড়

সৌদি এয়ার ডিফেন্স ফোর্স সোমবার ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি মক্কা …

শতাধিক মন্ত্রী-এমপি ও নেতার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাচ্ছে আ’লীগ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরের বাইরে ছিল না। এটা তৃণমূল নেতাকর্মী সমর্থকরা …

কঙ্কালে পরিণত হচ্ছে আবির, ফেলে চলে গেছে বাবা-মা

অজানা রোগে আক্রান্ত চার বছর বয়সী শিশু আবিরের শরীরটা দিনদিন তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। …

মক্কায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এবার বিস্ফোরক ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নাজরান প্রদেশে দেশটির বেসামরিক স্থাপনায় বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন হামলা হয়েছে। পবিত্র নগরী …

রাজধানীতে টিকিট ছাড়া আর বাস চলবে না: মেয়র

সড়কের জায়গা বেদখল যাতে না হয় সেজন্য সব পরিবহনের টিকিট কাউন্টার এক জায়গায় হবে। ঢাকার …

রমজান মাসের রাতে যে সূরা পাঠ করলে আল্লাহ্ তায়ালা মনের বাসনা পূর্ণ করেন

রমজান মাসের রাতে – পবিত্র কুরআন শরীফে ১১৪ টি সুরা আছে। প্রতিটি সুরার আছে স্পেশাল …

কবুতরের মাধ্যমে ঢাকায় ইয়াবা পাচার!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চলমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে বেকায়দায় আছে মাদক ব্যবসায়ীরা। তাই …

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পথে যে তারকারা

পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারের শুরু থেকেই তৃণমূলের লক্ষ্য ছিল ৪২-এ ৪২। কিন্তু বুথ ফেরত সমীক্ষা সেই …

দিনে পাঁচবার যৌনমিলনও আমার জন্য যথেষ্ট ছিল না

যৌনতা আসক্তিকে একটি রোগ হিসাবে তালিকাভুক্তি এবং চিকিৎসার জন্য দাবি তুলেছে দাতব্য প্রতিষ্ঠান রিলেট। যুক্তরাজ্যের …

আমি সরি! কাল নেত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসব : গোলাম রাব্বানী

সম্প্রতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে বিরোধ বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ শনিবার গভীর রাতে নেত্রীদের ওপর হামলার …

সময়ের চাহিদা মেটাতে প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন: ওবায়দুল কাদের

বর্তমানে বিরোধী দলের যে পারপাস, সেটা তুলে ধরতে মির্জা ফখরুলের শপথ নেওয়াটা আবশ্যক ছিল বলে …

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ইফতারে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের ইফতারে অংশ নিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। শনিবার …

৮ টি ভুল অভ্যাস যার ফলে ছেলেরা পুরুষত্বহীনতার শিকার হয়

“আমরা এমন একটি জগতে বাস করি যেখানে আমরা সেই জিনিসগুলিকেই চিহ্নিত করতে পারি যা আমাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *